রাতে ঘুম কম হওয়া এখন অনেকের নিত্যদিনের সমস্যা। কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা, আবার কারও ক্ষেত্রে গভীর রাত পর্যন্ত টিভি দেখা বা মোবাইল ও ল্যাপটপ ব্যবহারের কারণে ঘুমের সময় প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে। তবে রাত জাগার এই অভ্যাস যে অজান্তেই শরীরের বড় ক্ষতি করছে, তা অনেকেই বুঝতে পারছেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের স্বাভাবিক দেহঘড়ি বিগড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে হরমোনের ওপর। হার্ভার্ডের গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত রাত জেগে থাকেন এবং ভোরের দিকে মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমান, তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে না। এই হরমোনের মাত্রা কমে গেলে শুক্রাণুর উৎপাদন ও গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ধীরে ধীরে পুরুষদের বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি বাড়তে থাকে।
ঘুমের ঘাটতির কারণে শরীরে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণও বেড়ে যায়। কর্টিসলকে বলা হয় ‘স্ট্রেস হরমোন’। এই হরমোন বেড়ে গেলে টেস্টোস্টেরনের ক্ষরণ আরও কমে যায়। একই সঙ্গে ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ নামের একটি সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে, যেখানে ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। এতে শরীরে প্রদাহ বাড়ে এবং অনিদ্রার সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠে।
মানবদেহের নিজস্ব একটি ‘জৈবিক ঘড়ি’ আছে, যা নির্দিষ্ট ছন্দে চলে। এই ঘড়ির ওপর নির্ভর করে কখন ঘুম আসবে, কখন ঘুম ভাঙবে কিংবা কখন খিদে লাগবে। এই সময়ছন্দকে বলা হয় ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বা ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’। এই ছন্দ ঠিক থাকলেই শরীরের হরমোন নিঃসরণ স্বাভাবিক থাকে।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষকরা জানান, মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে থাকা ‘সুপ্রাকিয়াসম্যাটিক নিউক্লিয়াস’ নামের একটি অংশ শরীরের কেন্দ্রীয় ঘড়ি হিসেবে কাজ করে। এই ঘড়ির সঙ্গে তাল মিলিয়েই শরীরের নানা শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু ঘুমের সময় বারবার বদলে গেলে এই ছন্দ নষ্ট হয়ে যায় এবং হরমোন ও প্রোটিনের স্বাভাবিক ভারসাম্য ভেঙে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য রাতে অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম অত্যন্ত জরুরি। এই সময়েই শরীরে গুরুত্বপূর্ণ হরমোনগুলোর নিঃসরণ ও কার্যক্রম সঠিকভাবে চলে। নিয়মিতভাবে যদি এই সময় কমিয়ে দুই থেকে চার ঘণ্টায় নামিয়ে আনা হয়, তাহলে টেস্টোস্টেরনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের কাজ ব্যাহত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।









